জেনিথ ইসলামী লাইফের নজিরবিহীন দ্রুততায় মৃত্যুদাবি পরিশোধের দৃষ্টান্ত

বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ে দাবি নিষ্পত্তি একটি অপরিহার্য শর্ত। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। নোয়াখালীর বসুরহাট শাখায় এক নারী গ্রাহকের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর নমিনীর হাতে মাত্র এক কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদাবির চেক তুলে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি দেশের বীমা শিল্পে স্বচ্ছতা ও দ্রুত সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দ্রুত সেবা

জানা গেছে, মরহুমা রেশমা আক্তার জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বসুরহাট শাখার একজন সম্মানিত পলিসি গ্রাহক ছিলেন। তিনি তাঁর বীমা পলিসির বিপরীতে মাত্র ২ হাজার টাকার একটি কিস্তি পরিশোধ করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম কিস্তি জমা দেওয়ার কিছুকাল পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেনিথ ইসলামী লাইফ কর্তৃপক্ষ কোনো কালক্ষেপণ না করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদাবি পরিশোধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মরহুমা রেশমা আক্তারের নমিনী মাসুম মিয়ার কাছে ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়। নামমাত্র একটি কিস্তি জমা দেওয়ার পরও গ্রাহকের পরিবারকে পূর্ণ বীমা সুবিধা প্রদান করায় স্থানীয় পর্যায়ে কোম্পানিটির ভূয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে।


দাবি পরিশোধের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

বিবরণতথ্যাদি
বীমা প্রতিষ্ঠানের নামজেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি
সংশ্লিষ্ট শাখাবসুরহাট শাখা, নোয়াখালী
গ্রাহকের নামমরহুমা রেশমা আক্তার
পরিশোধিত কিস্তির পরিমাণ২,০০০ টাকা (১টি কিস্তি)
পরিশোধিত দাবির পরিমাণ৯৯,৪৫০ টাকা
দাবি নিষ্পত্তির সময়কালমাত্র ১ কর্মদিবস
সুবিধাভোগী/নমিনীমাসুম মিয়া

অনুষ্ঠান ও অতিথিবৃন্দের বক্তব্য

চেক হস্তান্তর উপলক্ষে বসুরহাট শাখা কার্যালয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মো. আরিফ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বীমা মানেই গ্রাহকের দুর্দিনে পাশে থাকা। আমরা প্রমাণ করেছি যে, জেনিথ ইসলামী লাইফ কেবল প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতেই নয়, বরং গ্রাহকের হক দ্রুততম সময়ে বুঝিয়ে দিতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • মো. শাহাদাত হোসেন, চিফ অপারেশন অফিসার।

  • মো. নুরুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট।

  • আবুল মোবারক হৃদয়, ইনচার্জ ও সেলস ম্যানেজার, বসুরহাট শাখা।

বক্তারা উল্লেখ করেন, অনেক সময় বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু জেনিথ ইসলামী লাইফ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়িয়ে সেই ধারণা পাল্টে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি সিনিয়র উন্নয়ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, যারা মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

গ্রাহক আস্থায় নতুন মাত্রা

সাধারণত জীবন বীমার ক্ষেত্রে দাবি উত্থাপন থেকে শুরু করে অর্থ পাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। কিন্তু মাত্র একটি কিস্তি দেওয়ার পর প্রায় এক লক্ষ টাকা দাবি পরিশোধ করা বীমা অংকের ঝুঁকি বহনের সার্থকতা প্রমাণ করে। মাসুম মিয়া চেক গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান যে, এই অর্থ তাঁর পরিবারের এই শোকাবহ সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অবলম্বন হয়ে দাঁড়াবে।

এই উদ্যোগটি কেবল বসুরহাটে নয়, বরং সারা দেশের বীমা গ্রাহকদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। জেনিথ ইসলামী লাইফ ভবিষ্যতে তাদের এই ‘দ্রুত নিষ্পত্তি’ মডেলটি সব শাখার জন্য কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

Leave a Comment