দেশের বীমা খাতে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং শ্রমিক অধিকার ও গবেষণা নিয়ে কাজ করা প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস)-এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক গ্রুপ বীমা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আস্থা লাইফের প্রধান কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
Table of Contents
চুক্তির প্রেক্ষাপট ও মূল উদ্দেশ্য
এই চুক্তির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো বিআইএলএসের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতিতে কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা প্রদান একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিআইএলএস তাদের জনবলের ঝুঁকি হ্রাসে আস্থা লাইফকে বীমা সহযোগী হিসেবে নির্বাচন করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আস্থা লাইফের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ সগিরুল ইসলাম, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি (অব.)। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস)-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন।
বীমা কভারেজ ও সেবাসমূহ একনজরে
এই গ্রুপ বীমা চুক্তির অধীনে বিআইএলএসের কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা উপভোগ করতে পারবেন। চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়বস্তু | বিবরণ |
| চুক্তির ধরণ | গ্রুপ লাইফ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স (জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা) |
| সুবিধাভোগী | বিআইএলএসের সকল স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারী |
| সেবা প্রদানকারী | আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড |
| প্রধান কভারেজ | স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব কভারেজ |
| অতিরিক্ত সুবিধা | হসপিটালাইজেশন বা হাসপাতালে ভর্তিকালীন চিকিৎসা ব্যয় সহায়তা |
| পরিচালনা কর্তৃপক্ষ | বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট |
আস্থা লাইফের বিশেষত্ব ও বিআইএলএসের ভূমিকা
আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। যদিও এটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত, তবে এর বীমা সেবাসমূহ দেশের সকল সাধারণ নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত। স্বচ্ছতা, সততা এবং দ্রুত বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখে আসছে। নিজেদের কর্মীদের জন্য এই বীমা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তারা নিয়োগকর্তা হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও গুরুত্ব
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে আস্থা লাইফের সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ সগিরুল ইসলাম (অব.) বলেন, “বিআইএলএসের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বীমা সুরক্ষা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা বিশ্বাস করি, জীবন বীমা কেবল একটি পলিসি নয়, এটি আপদকালীন সময়ে একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা।”
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ফলে তাদের কর্মীরা কর্মস্থলে আরও বেশি নিরাপদ বোধ করবেন এবং তাদের কাজের একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আস্থা লাইফের পরিষেবার মান ও স্বচ্ছতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।
সামগ্রিকভাবে, এই ধরনের কর্পোরেট চুক্তি দেশের বীমা খাতের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক করতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বিআইএলএসের কর্মীদের পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা অনেকটা সুসংহত হলো।
