স্বার্থের ক্ষেত্রে জীবন বীমা – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
স্বার্থের ক্ষেত্রে জীবন বীমা

জীবন বীমার ক্ষেত্রে বীমার বিষয়বস্তু হচ্ছে — জীবন। অর্থাৎ, জীবনের উপর বীমাপত্র গ্রহণ করা হয়। কিন্তু, যে কেউ যারতার জীবনের উপর বীমা করতে পারবেন না। কেননা, যে জীবনের উপর বীমাপত্র গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়, সে জীবনের উপর প্রস্তাবকারীর অবশ্যই স্বার্থ থাকতে হবে।
অর্থাৎ, যার জীবনের উপর বীমা করার প্রস্তাব করা হয়, তার মৃত্যুতে বা অনুপস্থিতিতে অথবা অক্ষমতায় প্রস্তাবকারীর ক্ষতি হবে এবং বিদ্যমানতা বা অস্তিত্বে স্বার্থ রক্ষিত হবে অথবা লাভ বা উপকার সাধিত হবে। নিজের জীবনের উপর নিজের বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকায় যে কেউ নিজের জীবনের উপর বীমা করতে পারেন। তবে, অন্যের জীবনের উপর বীমা করা যায় তখনই, যখন তার জীবনের উপর আর্থিক স্বার্থ বিদ্যমান থাকে, অন্যথায় নয়। এমনকি, পারিবারিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সম্পর্ক বা যৌক্তিক নির্ভরশীলতা না থাকলে একে অপরের জীবনের উপর বীমা করতে পারবেন না।
এমনকি, সন্তান যদি পিতা-মাতার উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হয়, তাহলে সন্তানও পিতা-মাতার জীবনের উপর বীমা করতে পারবে না এবং বিপরীতভাবে পিতা-মাতা যদি সস্তানের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হন, তাহলে তারাও সস্তানের জীবনের উপর বীমা করতে পারবেন না (লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়ার পরে)। কেননা, পরস্পরের মধ্যে আর্থিক সম্পর্ক বা স্বার্থ বিদ্যমান না থাকলে বীমাযোগ্য স্বার্থ বিদ্যমান থাকে না।
এম. এন. মিশ্র তাই সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক তার “Insurance – Principles and Practice গ্রন্থে লিখেছেন
“The insurable interest may arise due to family relationship if pecuniary interest exists between the policy-holder and life assured. because mere relationship or ties of blood and of affection does not constitute insurable interest (পারিবারিক সম্পর্ক থেকে বীমাযোগ্য স্বার্থ উদ্ভব হতে পারে যদি বীমাপত্রধারী ও বীমাকৃতের মধ্যে আর্থিক স্বার্থ বিদ্যমান থাকে। কারণ,কেবল সম্পর্ক অথবা রক্ত বা স্নেহ-মমতার বন্ধনই বীমাযোগ্য স্বার্থ গঠন করে না)।
[প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, এ নিয়মের একটু শিথিলতা আছে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের জীবনের ক্ষেত্রে। তাদের মধ্যেও আর্থিক সম্পর্ক (Financial relationship) বা আর্থিক স্বার্থ (Pecuniary interest) তথা বীমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable interest) থাকতেই হবে তবে, শিথিলতা শুধু এটুকু যে, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের জীবনের উপর যে আর্থিক স্বার্থ আছে তা প্রমাণ করতে হয় না। কেননা, আইনই তা বলে দিয়েছে।]

মোট কথা, বীমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়া জীবন বীমা চুক্তি হতে পারে না; যদি হয় তাহলে সে চুক্তি জুয়া চুক্তি বলে গণ্য হবে। ঘোষ ও আগরওয়ালাও তাই বলেছেন—
“A life insurance contract without insurable interest is a purely gambling contract which is void at law ” – অর্থাৎ, বীমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়া কোন জীবন বীমা চুক্তি নিরেট জুয়া খেলার চুক্তি যা আইনতঃ বাতিল বলে গণ্য হয়।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনা থেকে সহজেই অনুমেয় যে, জীবন বীমার ক্ষেত্রে বীমাযোগ্য স্বার্থের গুরুত্ব অপরিসীম ও তর্কাতীত।
