পুনর্বীমা ও যুগ্মবীমার মধ্যে পার্থক্য – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ, পুনবীমা (Re-insurance) এবং যুগ্মবীমা (Double Insurance)-এর মধ্যে কতিপয় পার্থক্য বিদ্যমান। নিম্নে এদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ প্রদত্ত হলোঃ
পুনর্বীমা ও যুগ্মবীমার মধ্যে পার্থক্য

পুনর্বীমা:
১. পুনর্বীমা হলো দু’টি বীমা কোম্পানীর বা সংস্থার সাথে সম্পাদিত চুক্তি আর,
২. কিন্তু, যুগ্মবীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতার দায়-দায়িত্ব বা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায়।
৩. পুনর্বীমা অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে বেশী জনপ্রিয়।
৪. পুনর্বীমা ক্ষতিপূরণের নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত;
৫. ঝুঁকির পরিমান হ্রাস করার জন্যে পুনর্বীমা করা হয় ।
৬. পুনর্বীমার বেলায় বীমাগ্রহীতার সম্পর্ক চুক্তি মোতাবেক কেবলমাত্র প্রথম বীমাকারীর সাথেই সীমাবদ্ধ থাকে।
৭. পুনবীমা পূর্বের কোন বীমাচুক্তিকে বাদ দিয়ে করা যায় না।
৮. পুনর্বীমার ক্ষেত্রে প্রথম বীমাচুক্তির শর্তাবলী প্রযুক্ত হয়।
৯. পুনর্বীমার ক্ষেত্রে প্রথম বীমাচুক্তি নাকচ হলে পুনর্বীমা চুক্তিও বাতিল হবে
১০. পুনর্বীমার ক্ষেত্রে মূল বীমাগ্রহীতা একটি মাত্র চুক্তির আওতায় থাকেন এবং তাকে শুধু একটি সংস্থার কাছেই প্রিমিয়াম দিতে হয় এবং বীমাগ্রহীতা একটি সংস্থা হতে বীমাদাবী পেতে পারেন।
১১. পুনর্বীমার ক্ষেত্রে একটি বীমা সংস্থার সাথে অন্য বীমা সংস্থার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়;
১২ পুনর্বীমার ক্ষেত্রে প্রথম বীমাকারী পরবর্তী বীমার জন্যে দায়ী থাকেন।
যুগ্মবীমা:
১. যুগ্মবীমা হলো বীমাগ্রহীতা ও একাধিক (দু’টি) বীমা কোম্পানী বা সংস্থার সাথে সম্পাদিত চুক্তি।
২. পুনর্বীমার ক্ষেত্রে মূল বীমাগ্রহীতার দায়-দায়িত্ব কিংবা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায় না;
৩. পক্ষান্তরে, যুগ্মবীমা জীবন বীমার বেলায় অধিক জনপ্রিয়।
৪. কিন্তু, যুগ্মবীমা ক্ষতিপুরণের নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়।
৫. অপরদিকে, রীমাযোগ্য স্বার্থ রক্ষার্থে যুগ্মবীমা করা হয়।
৬. আর, যুগ্ম বীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতার চুক্তিগত সম্পর্ক প্রথম বীমাকারীর সঙ্গে যেরূপ থাকে, পরবর্তী বীমাকারীর সাথেও তেমন থাকে।
৭. কিন্তু, যুগ্মবীমা পূর্বের বীমা চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়েও করা যায়।
৮. কিন্তু, যুগ্মবীমার ক্ষেত্রে প্রথম বীমাচুক্তির শর্তাবলী অপর বীমাচুক্তিতে প্রযুক্ত হয় না।
৯. কিন্তু, যুগ্মবীমার ক্ষেত্রে বাতিল নাও হতে পারে।
১০. কিন্তু, যুগ্মবীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতা দু’টি চুক্তির আওতায় থাকেন এবং দু’টি সংস্থার কাছেই চুক্তি মোতাবেক তাকে প্রিমিয়াম দিতে হয়। এবং দু’টি সংস্থা থেকেই তিনি বীমাদাবী পেয়ে থাকেন।
১১. অন্যদিকে, যুগ্মবীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতার সাথে রীমা সংস্থার সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
১২. কিন্তু, যুগ্মবীমার ক্ষেত্রে বীমাকারী পরবর্তী বীমার জন্যে দায়ী থাকেন না।

