গোষ্ঠী বীমা – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ” অধ্যায়ের একটি পাঠ। গোষ্ঠী বীমাও স্বভাবতঃ একাধিক জীবনের উপরই করা হয়। তাই, এটিও জীবন বীমা তথা বহু-জীবন বীমাপত্রেরই আওতাভুক্ত। তথাপি এর প্রকৃতি কিছুটা ভিন্নতর বিধায় একে আলাদাভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
তদুপরি, বলা প্রয়োজন যে, এ ধরনের বীমা মূলতঃ মৃত্যু ঝুঁকির বিরুদ্ধেই গ্রহণ করা হতো এবং তদুদ্দেশেই ১৯১১ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকাতে এ ধরনের বীমা পদ্ধতির প্রচলন হয়। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে অসুস্থতা, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, অক্ষমতা ইত্যাদির বিরুদ্ধেও এ ধরনের বীমাপত্র প্রদান করা হতে থাকে এবং তন্নিরীখেই আবার গোষ্ঠী বীমাকে আরও কয়েকটি ভাগে বিন্যস্ত করা হয়। যেমন :- . গোষ্ঠী জীবন বীমা, গোষ্ঠী পেনশন ব্যবস্থা ইত্যাদি।
গোষ্ঠী বীমা (Group Insurance)

ধারণা ও কর্মধারার বিবর্তনে কালক্রমে যে স্থির সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে তদনুযায়ী বলা যায় যে, কিছু সংখ্যক লোকের জন্যে দলীয়ভাবে বা একসাথে যে বীমা গ্রহণ করা হয়, তাকে দলীয় বীমা বলা হয়। সাধারণতঃ কর্মচারীদের জন্যেই এ ধরনের বীমা গ্রহন করা হয়। Mowbray ও Blanchard তাই বলেছেন – “নিয়োগকারী ও বীমাকারীর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে কর্মচারীদের জন্যে গৃহীত বা প্রদত্ত দলীয় বীমাই হচ্ছে গোষ্ঠী বীমা”। তবে, অন্যান্যদের জন্যেও এ বীমার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। আমেরিকা ও কানাডায় ট্রেড ইউনিয়ন, ক্রেতা সমবায় প্রতিষ্ঠান, সরকারী কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও এ জাতীয় বীমার সুযোগ প্রদান করা হয়ে থাকে।
গোষ্ঠী বীমার একটি প্রধান প্রকরণ হচ্ছে গোষ্ঠী জীবন বীমা (Group Life Insurance)। স্বল্প প্রিমিয়ামে কোন প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারীদের জন্যে একসাথে জীবন বীমা গ্রহণ করা হলে, তাকে গোষ্ঠী জীবন বীমা বলা হয়। এ ধরনের জীবন বীমা পরিচালনার খরচ একক জীবন বীমার তুলনায় কম বিধায় প্রিমিয়ামের হার অপেক্ষাকৃত অনেক কম হয়ে থাকে। অনেক লোকের জীবনের উপর একই সাথে এ বীমা করা হয় বলে বাস্তব কারণেই বীমাগ্রহীতাগণ কিছু স্বাভাবিক সুযোগ পেয়ে থাকেন। যেমন: –
(ক) দলের সদস্য সংখ্যা বেশী হলে ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই জীবন বীমার জন্যে গ্রহন করা হয়।
(খ) স্বাভাবিকভাবেই অপেক্ষাকৃত খারাপ স্বাস্থ্যের ব্যক্তিগণও এক্ষেত্রে বীমার সুযোগ পেয়ে যান :
(গ) যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয় এবং
(ঘ) প্রিমিয়ামের হার কম হয় :
এই ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ও নিয়ম-নীতি হলো এই যে –
(১) এ বীমাপত্রে সাধারণতঃ প্রত্যেক সদস্যকে আলাদা আলাদা বীমাপত্র সরবরাহ না করে একই বীমাপত্রে গোষ্ঠী বা দলভুক্ত সকল সদস্যের নাম তালিকাভুক্ত করে বীমাচুক্তি সম্পাদন করা হয়।
(২) প্রত্যেক সদস্যের বয়সের উপর ভিত্তি করে প্রিমিয়াম ধার্য করা হয় এবং সকল সদস্যের মোট দেয় প্রিমিয়াম প্রতি বছর একসাথে মালিক বা নিয়োগকারী অথবা দলপতি কর্তৃক প্রদান করা হয়ে থাকে।
(৩) প্রদেয় প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণই মালিক বা নিয়োগকারী নিজ তহবিল থেকে প্রদান করতে পারেন বা প্রিমিয়ামের নির্দিষ্ট অংশ নিয়োগকারীর তহবিল থেকে এবং নির্দিষ্ট অংশ কর্মচারী বা সদস্যগণের বেতন বা মজুরী থেকে কেটে বা নগদ আদায় করে একত্রে বীমাকারীকে প্রদান করতে পারেন।
(৪) এ ধরনের বীমা আজীবন, মেয়াদী নির্দিষ্ট কিস্তিতে পরিশোধ্য ও সাময়িক বীমা প্রকরণেও হতে পারে।
(৫) বীমার মেয়াদের মধ্যে কোন সদস্য দল ত্যাগ করলে তাকে মল ত্যাগের তারিখ থেকে একক জীবনের উপর প্রযোজ্য হারে ভবিষৎ প্রিমিয়াম প্রদান করার শর্তে জীবন বীমার সুবিধা ভোগ করতে দেয়া হয়। এছাড়া, গোষ্ঠী বীমার আর একটি প্রকরণ হচ্ছে গোষ্ঠী পেনশন ব্যবস্থা। এ ধরনের বীমায় অপেক্ষাকৃত কম প্রিমিয়ামে কোন প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারীর জীবনের উপর একসাথে বিলম্বিত এদুইটি করে সাধারণতঃ অবসর গ্রহণের সময় থেকে আজীবন পেনশন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

মোট কথা, গ্রুপ বীমারও রয়েছে বিভিন্ন প্রকরণ এবং সুযোগ-সুবিধা। তবে, এ ধরনের বীমা আমেরিকা ও কানাডাতেই বেশী প্রচলিত। কিছু বিশেষ সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যান্য দেশে এ ব্যবস্থা ততটা জনপ্রিয়তা লাভে সক্ষম হয়নি।
