শতবর্ষ পেনশন সুবিধা দিচ্ছে মেটলাইফের লাইফলাইন

অবসর-পরবর্তী জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। সরকারি পেনশন ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও অবসরভিত্তিক বিমা পণ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে মেটলাইফ বাংলাদেশের জীবনবিমা পণ্য ‘লাইফলাইন’ দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই পণ্যটি ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে পরিচালিত হয় এবং ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যে কেউ এতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পলিসির সুবিধা গ্রাহক ১০০ বছর বয়স পর্যন্তও পেতে পারেন। পলিসির পরিমাণ দেড় লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়। প্রিমিয়াম প্রদানের ক্ষেত্রে মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক এবং বার্ষিক—এই চারটি পদ্ধতি রয়েছে।

লাইফলাইন মূলত এমন একটি অবসরভিত্তিক পরিকল্পনা যেখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পর গ্রাহক নির্ধারিত বয়স বা মেয়াদ শেষে নিয়মিত মাসিক বা বার্ষিক পেনশন পেতে শুরু করেন। পলিসি চলাকালে গ্রাহকের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত বিমা সুবিধা পান। একই সঙ্গে পলিসি মেয়াদ পূর্ণ হলে গ্রাহক নিজে নিয়মিত পেনশন গ্রহণ করতে পারেন।

লাইফলাইন পণ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

বিষয়বিবরণ
যোগ্য বয়স১৮ থেকে ৫৫ বছর
মেয়াদ১০ থেকে ২০ বছর
সর্বোচ্চ সুবিধা বয়স১০০ বছর পর্যন্ত
পলিসি পরিমাণদেড় লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা
প্রিমিয়াম প্রদানের পদ্ধতিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক, বার্ষিক
ঋণ সুবিধাজমা প্রিমিয়ামের ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত
অতিরিক্ত সুবিধাহাসপাতালে চিকিৎসা, গুরুতর রোগ সুরক্ষা, দুর্ঘটনা সুরক্ষা, প্রিমিয়াম মওকুফ

পলিসির প্রিমিয়াম নির্ধারণ হয় গ্রাহকের বয়স, মেয়াদ এবং ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী। অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করলে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পায়। এসব সুবিধার মধ্যে হাসপাতাল চিকিৎসা সুরক্ষা, গুরুতর রোগজনিত সুরক্ষা, দুর্ঘটনা সুরক্ষা এবং প্রিমিয়াম মওকুফের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে বোনাস বা অতিরিক্ত আয়ের পরিমাণ কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

দেশে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাধ্যতামূলক পেনশন ব্যবস্থা না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ধরনের বিমা পণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাও বিদ্যমান থাকলেও বেসরকারি খাতের বড় অংশ এখনো এর বাইরে। ফলে ব্যাংক আমানত সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সঞ্চয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিমা ভিত্তিক পেনশন পরিকল্পনার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক গ্রাহক মনে করেন, দীর্ঘ সময় প্রিমিয়াম দেওয়ার পর প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা কম পাওয়া যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে পলিসি ভাঙলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবও বিবেচনায় আসে।

সব মিলিয়ে, লাইফলাইন পণ্যটি মূলত ঝুঁকি সুরক্ষা ও অবসরকালীন আয় নিশ্চিত করার একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এটি মুনাফাভিত্তিক বিনিয়োগের বিকল্প না হয়ে আর্থিক নিরাপত্তার একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।

Leave a Comment