থাইল্যান্ডভিত্তিক বীমা প্রতিষ্ঠান Thai Life Insurance–এর ভবিষ্যৎ আয় ও মুনাফা নিয়ে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান Maybank। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে থাই লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। কম বীমা দাবি, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী মূলধন কাঠামোকে এই সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মেব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটি Thai Life Insurance–এর ২০২৬ সালের মূল মুনাফার পূর্বাভাস ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে এবং এর মূলধন পর্যাপ্ততার হার বা ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও ১ হাজার ১৯১ দশমিক ৬ শতাংশে অবস্থান করছে। বীমা শিল্পে এই ধরনের উচ্চ মূলধন সক্ষমতা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মেব্যাংক তাদের নতুন মূল্যায়নে কোম্পানিটির লক্ষ্যমূল্যও সংশোধন করেছে। পূর্বে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য প্রাইস-টু-এম্বেডেড ভ্যালুর ০ দশমিক ৭৫ গুণ ধরে মূল্যায়ন করা হলেও এখন তা বাড়িয়ে ০ দশমিক ৯ গুণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা শক্তিশালী হওয়া এবং বন্ডের সুদের হার নিম্নমুখী হওয়ায় বিনিয়োগ পরিবেশ আরও অনুকূল হয়েছে। এর ফলেই মূল্যায়নে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, Thai Life Insurance–এর বীমা আয় ২০২৪ অর্থবছরে ৩২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন থাই বাত বা প্রায় ১ দশমিক ০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ১৩ বিলিয়ন থাই বাত বা প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে কোম্পানিটির মূল নিট মুনাফা ১০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন থাই বাত বা প্রায় ৩১৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন থাই বাত বা প্রায় ৩৯৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, শেয়ারপ্রতি মূল আয় বা কোর আর্নিংস পার শেয়ারও ধারাবাহিকভাবে বাড়তে পারে। ২০২৪ অর্থবছরে যা ছিল ০ দশমিক ৯০ থাই বাত বা প্রায় ০ দশমিক ০২৮ মার্কিন ডলার, তা ২০২৭ অর্থবছরে বেড়ে ১ দশমিক ১১ থাই বাত বা প্রায় ০ দশমিক ০৩৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ ০ দশমিক ৫০ থাই বাত থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ০ দশমিক ৭০ থাই বাতে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি নিট ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেব্যাংকের মূল্যায়নে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানিটির গড় ইক্যুইটির বিপরীতে রিটার্ন বা রিটার্ন অন অ্যাভারেজ ইক্যুইটি (ROAE) ধাপে ধাপে উন্নত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে এটি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৬ সালে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা কোম্পানিটির আয় সক্ষমতা ও মূলধন ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বব্যাপী বীমা শিল্প বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উচ্চ ক্ষতিপূরণ দাবি, বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং সুদের হার পরিবর্তনের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবুও Thai Life Insurance তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আর্থিক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী মূলধন ভিত্তি, বিনিয়োগ আয়ের সম্ভাব্য বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রিত দাবি ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বীমা শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক অবস্থান এবং স্থিতিশীল আর্থিক পরিকল্পনার কারণে Thai Life Insurance দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বীমা শিল্পে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। সর্বশেষ পূর্বাভাসে সেই ইতিবাচক আর্থিক প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
