বীমা খাতের একজন প্রখ্যাত পেশাজীবী ড. বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল আইডিআরএ’র আচরণকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে তার অপসারণের সিদ্ধান্ত ও পরে সেই আদেশ সংশোধন প্রক্রিয়ায় নিয়মের বহর অমান্য এবং শর্ত আরোপের ঘটনা এই অভিযোগের মূল।
ড. মণ্ডলের মতে, আইডিআরএ’র দুই সদস্য—আবু বকর সিদ্দিক (নন-লাইফ) ও আপেল মাহমুদ (লাইফ)—মৌখিকভাবে তাকে আশ্বাস দেন, মামলা প্রত্যাহার করলে তার অপসারণ আদেশ বিনাশর্তে প্রত্যাহার করা হবে এবং পুনরায় তিনি মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর মামলা প্রত্যাহার এবং আবেদন দাখিল করেন ড. মণ্ডল।
তবে আশ্বাসের ঠিক তিন মাস পর, ২০২৬ সালের ১ মার্চ আইডিআরএ নতুন করে চারটি শর্ত সংযুক্ত করে সংশোধিত আদেশ জারি করে। এতে বলা হয়, তিনি যমুনা লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না এবং এক বছর কোনো বীমা কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন না।
আইডিআরএ-এর এমন আচরণ বীমা আইন ২০১০-এর ধারা ৫০-এর বিধানের বিপরীতে। আইন অনুযায়ী, অপসারণ আদেশ বাতিল বা সংশোধন করতে পারে, তবে শর্ত আরোপের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
মূল বিষয়াবলি ও সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা | মন্তব্য / প্রভাব |
|---|---|---|
| ১৬ অক্টোবর ২০২৩ | হোমল্যান্ড লাইফ থেকে অপসারণ আদেশ | বিশেষ নিরীক্ষককে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে, বাস্তবে পরিচালকদের দ্বন্দ্বের কারণে অপসারণ |
| ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থা আদেশ | মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ড. মণ্ডল মুখ্য নির্বাহী হতে পারবে না |
| ৯ নভেম্বর ২০২৫ | আইডিআরএ’র সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা | মামলা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে আশ্বাস দেওয়া হয় |
| ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | মামলা প্রত্যাহার ও আবেদন দাখিল | সার্টিফাইড কপিসহ আইডিআরএ’র কাছে দাখিল |
| ১ মার্চ ২০২৬ | সংশোধিত অপসারণ আদেশ | চারটি শর্তসহ জারি, এক বছর সিইও পদে নিয়োগে বিধিনিষেধ |
ড. মণ্ডল অভিযোগ করেন, লন্ডন প্রবাসী সিলেটের পরিচালকদের প্রভাব এবং হোমল্যান্ড লাইফের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে অপসারণ আদেশ হয়েছিল। বিশেষ করে পরিচালকরা চাচ্ছিলেন বোর্ড মিটিং ফি, গাড়ি সুবিধাসহ অবৈধ আর্থিক সুবিধা। তিনি তা না দেওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আইডিআরএ’র এ ধরনের আচরণ বীমা খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। ড. মণ্ডল বলেন, “আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আইডিআরএ’র ক্ষমতার এমন অপব্যবহার বীমা খাতের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে এবং পেশাজীবীদের এই সংস্থার প্রতি আস্থা হ্রাস পাবে।”
আইডিআরএ’র সদস্য (লাইফ) আপেল মাহমুদ ও সদস্য (নন-লাইফ) আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাক্ষাৎকার দেননি।
এ ঘটনাটি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পেশাজীবীদের মধ্যে আস্থা, নীতি ও স্বচ্ছতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
