বীমা কোম্পানির লাইসেন্স ফি মওকুফে বিআইএ-এর বিশেষ আবেদন

বাংলাদেশের বীমা খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ), দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংগঠনটি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত লাইসেন্স নবায়নের অবশিষ্ট ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করেছে।

চিঠির মূল প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি

বিআইএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আদিবা রহমান স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি গত রোববার (৮ মার্চ, ২০২৬) আইডিআরএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে পৌঁছানো হয়েছে। চিঠিতে মূলত বীমা আইনের বিদ্যমান ধারা এবং বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে ফি মওকুফের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে।

বীমা আইন, ২০১০-এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে তাদের ব্যবসা সচল রাখতে প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বছরের নিবন্ধন নবায়নের আবেদনটি পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, দেশের প্রায় সকল বীমা কোম্পানি ২০২৬ সালের জন্য তাদের প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেছে।

বিআইএ ও আইডিআরএ-এর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

এই দাবির সপক্ষে গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিআইএর একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল আইডিআরএ চেয়ারম্যানের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়। উক্ত সভায় বীমা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রতিনিধি দলটি যুক্তি প্রদান করে যে, বীমা কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে তাদের কর এবং অন্যান্য ফি পরিশোধ করে আসছে। এমতাবস্থায় লাইসেন্স নবায়নের অবশিষ্ট ফি মওকুফ করা হলে কোম্পানিগুলোর তারল্য সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তারা গ্রাহক সেবায় অধিক বিনিয়োগ করতে পারবে।

নিচে বীমা লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

সংশ্লিষ্ট আইন ও ধারাবিষয়ের বিবরণসময়সীমা/শর্ত
বীমা আইন ১১(২)নিবন্ধন নবায়নের আবেদন দাখিলপূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বর
বীমা আইন ১১(৩)লাইসেন্স নবায়ন অনুমোদনফি ও আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে
বিআইএ-এর দাবিঅবশিষ্ট ফি মওকুফ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগেজেট সংশোধনফি মওকুফ বাস্তবায়নে জরুরি

আর্থিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

বিআইএ তাদের চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, এই মওকুফ প্রক্রিয়াটি কার্যকর করতে যদি বিদ্যমান কোনো বিধিমালার পরিবর্তন প্রয়োজন হয়, তবে যেন দ্রুত গেজেট সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বীমা বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই ধরনের নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে লাইফ এবং নন-লাইফ মিলিয়ে মোট ৮২টি বীমা কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশাল খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা সচেতনতা তৈরিতে কোম্পানিগুলোর ব্যয়ভার কিছুটা কমানো গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

উপসংহার

আইডিআরএ যদি বিআইএ-এর এই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয়, তবে এটি দেশের বীমা খাতের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে। এখন দেখার বিষয়, বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই আর্থিক ছাড়ের আবেদনটি কত দ্রুত পর্যালোচনা করে এবং সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

Leave a Comment