চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের আর্থিক কার্যকারিতায় উল্লেখযোগ্য চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মূলত বিমা দাবি পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় কমে যাওয়ায় এই পতন ঘটেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২৪ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতে এমন পতন সাধারণত দেখা যায় যখন দাবি নিষ্পত্তির চাপ বেড়ে যায় এবং আর্থিক বাজার থেকে অর্জিত আয় দুর্বল থাকে।
কোম্পানির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এ সময়ে গ্রাহকদের বিমা দাবির বিপরীতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজার ও অন্যান্য বিনিয়োগ খাত থেকেও প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়নি। এর ফলে সামগ্রিক আয়ের কাঠামোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকির দাবি নিষ্পত্তির হার বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুনাফা কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে আয়ের পতন সত্ত্বেও কোম্পানিটির সম্পদভিত্তিতে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য আগের বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৩১ টাকা ৪ পয়সা, যা চলতি বছরের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ১১ পয়সায়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির সম্পদ কাঠামো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে নগদ প্রবাহ পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ২ টাকা ৭৯ পয়সায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ধনাত্মক ১১ পয়সা ছিল। বিমা দাবির বড় পরিমাণ পরিশোধ এবং প্রিমিয়াম সংগ্রহে ধীরগতির কারণে এই নগদ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর্থিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| আর্থিক সূচক | ২০২৬ প্রথম তিন মাস | ২০২৫ প্রথম তিন মাস |
|---|---|---|
| শেয়ারপ্রতি আয় | ২৪ পয়সা | ৪৫ পয়সা |
| আয় পরিবর্তন | প্রায় ৪৬ শতাংশ হ্রাস | — |
| শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য | ৩২ টাকা ১১ পয়সা | ৩১ টাকা ৪ পয়সা |
| শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ | ঋণাত্মক ২ টাকা ৭৯ পয়সা | ধনাত্মক ১১ পয়সা |
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্থিতি সাধারণত দুইটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—দাবি নিষ্পত্তির দক্ষতা এবং বিনিয়োগ থেকে আয় অর্জনের সক্ষমতা। ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্সের ক্ষেত্রে এই দুই ক্ষেত্রেই চাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে মুনাফা হ্রাস পেয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্পদমূল্যের উন্নতি একটি ইতিবাচক দিক। এটি নির্দেশ করে যে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হতে পারে, যদি দাবি ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হয় এবং বিনিয়োগ কৌশল আরও বৈচিত্র্যময় করা যায়।
এছাড়া প্রিমিয়াম সংগ্রহ ব্যবস্থার গতি বাড়ানো এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে নগদ প্রবাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। সামগ্রিকভাবে, স্বল্পমেয়াদে চাপ থাকলেও কাঠামোগত উন্নতির মাধ্যমে কোম্পানিটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ ধরে রেখেছে।
