Table of Contents
স্বদেশ লাইফের চেয়ম্যানের দুই সঞ্চয়পত্র আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ
ঢাকার স্বদেশ লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের চেয়ম্যান মো. মাকসুদুর রহমানের নামে থাকা দুটি সঞ্চয়পত্র ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত ও অভিযোগের মূল বিষয়
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক নাফিজুর রহমান আবেদনে উল্লেখ করেছেন, এই দুটি সঞ্চয়পত্রে মোট ৪০ লাখ টাকা রয়েছে। আদালতে আবেদনে বলা হয়েছে, মো. মাকসুদুর রহমান এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা শাখা থেকে স্বদেশ লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের নামে থাকা এফডিআর জামানত হিসেবে রেখে ১০ কোটি ২১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ওই ঋণ অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে উত্তোলন করেছেন এবং তা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া এই অর্থ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগে নিয়োগ করার তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
ফ্রিজের প্রয়োজনীয়তা
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি সঞ্চয়পত্র দুটি অবরুদ্ধ না করা হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সহজেই এই টাকা উত্তোলন করে বিলীন করতে পারেন। তাই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য মো. মাকসুদুর রহমান এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা দুটি সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করেছেন যে, অবরুদ্ধ না হলে মামলার ন্যায়পরায়ণ তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া এই পদক্ষেপ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যসারণী
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত | মো. মাকসুদুর রহমান (চেয়ম্যান, স্বদেশ লাইফ ইন্সুরেন্স) |
| আদেশ দিয়েছেন | ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ |
| সঞ্চয়পত্রের মোট মূল্য | ৪০ লাখ টাকা |
| ব্যাংক ঋণের পরিমাণ | ১০ কোটি ২১ লাখ ১৭ হাজার টাকা |
| ব্যাংক | এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা শাখা |
| কারণ | মামলা তদন্তে বাধা প্রতিরোধ এবং অর্থ আত্মসাৎ রোধ করা |
এভাবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র দুটি অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যাতে মামলা তদন্ত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে।
