ক্ষতিপূরণের নীতির প্রয়োগ-বিধিসমূহ

ক্ষতিপূরণের নীতির প্রয়োগ-বিধিসমূহ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ:

ক্ষতিপূরণের নীতির প্রয়োগ-বিধিসমূহ

 

১. ইচ্ছাকৃত ক্ষতি এড়ানো (To avoid intentional loss) :

ক্ষতি যাই হোক – তা পূরণ করে দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে অনেকেই অধি-বীমা (Over- insurance) করে সম্পত্তির ইচ্ছাকৃত ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে অধিক প্রাপ্তির আকাঙ্খায় প্রণোদিত হতে পারেন। তাই, এ ধরনের প্রবণতা রোধ করার উদ্দেশ্যে সাধারণ বিধি প্রবর্তিত হয়েছে যাতে কেউ ক্ষতিপূরণের বদৌলতে মুনাফা অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করতে না পারেন। অর্থাৎ, বীমাদাবী নির্ণিত হবে প্রকৃত ক্ষতির উপর ভিত্তি করে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচ্য যে

(ক) ক্ষতিটি প্রকৃত কিনা,

(খ) ক্ষতি প্রকৃতই সঙ্ঘটিত হলে তার প্রকৃত পরিমাণ কি এবং (গ) অধি-বীমা (Over-insurance) বা অব-বীমা (Under-Insurance) করা হয়ে থাকলে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিনা। এসব আনুষ্ঠানিকতা বা নিয়ম অনুসৃত হওয়ার ফলে ইচ্ছাকৃত ক্ষতি সাধনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের নীতির প্রয়োগ-বিধিসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(২) অসামাজিক কাজ এড়ানো (To avoid Anti-social Act) :

ক্ষতি হলেই যদি তা পূরণ করে দেয়া হতো, তাহলে অনেকেই বীমাকৃত সম্পত্তির অধিকাংশ অন্যত্র সরিয়ে হয়ত অগ্নি সংযোগ করে পুরোটাই ধ্বংস দেখিয়ে মুনাফা করার আকাঙ্খায় বা অধিক প্রাপ্তির লালসায় প্রবৃত্ত হতেন এবং বীমাপত্র গ্রহণ করে বীমাকৃত সম্পত্তি ধংস করে মুনাফা অর্জনের এক নিয়ত দুরাকাঙ্খায় প্রণোদিত থাকতেন অনেক বীমাগ্রহীতা। তাই, এ প্রবণতা রোধের উদ্দেশ্যে নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে যে, ক্ষতিপুরণের আগে ক্ষতিটি যে অনিবার্য ছিল বা ক্ষতি রোধ করার সকল প্রচেষ্টা বা ব্যবস্থা রাখা সত্ত্বেও তা রোধ করা সম্ভব হয়নি, তা প্রমাণ করতে হবে। এভাবে অসামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছে।

 

(৩) বীমা সেলামী বা কিস্তির নিম্নহার সংরক্ষণ করা (To maintain the Premium at Low-level) :

ক্ষতিপূরণের নীতি প্রয়োগকৃত না হলে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতির জন্যে অধিক পরিশোধ করতে হতো যার ফলে একাধারে বীমার খরচ বেড়ে যেতো এবং বীমা সেলামীর পরিমাণও বেড়ে যেতো। তাতে প্রকারান্তরে দু’টো অসুবিধা সৃষ্টি হতো। যথা :

(১) বীমাপত্র ক্রয়ে জনসাধারণের আগ্রহ হ্রাস পেতো এবং (২) অসদুদ্দেশ্যে প্রণোদিত ব্যক্তিবর্গ বীমাকৃত সম্পত্তি ধ্বংস করে অধিক অর্থ প্রাপ্তির দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত হতো। উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে ক্ষতিপূরণের নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে যে, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির বেশী পরিশোধ করা হবে না – যদি প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণের চেয়ে বীমাকৃত মূল্য বেশী না হয়। এ ব্যবস্থার ফলে বীমা সেলামীর হার নিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়।

ক্ষতিপূরণের নীতি প্রয়োগের শর্তাবলী * Conditions for the application of the Principle of Indemnity ক্ষতিপুরণের নীতি কার্যকর করতে অথবা ক্ষতিপূরণ তথা বীমাদারী পেতে হলে নিম্নে বর্ণিত শর্তসমূহ অবশ্য পালনীয় ও পুরনীয় :-

 

ক্ষতিপূরণের নীতির প্রয়োগ-বিধিসমূহ | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(১) বীমাগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে যে, দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হলে বীমার বিষয়বস্তুর ক্ষতি সাধিত হবে এবং বীমাগ্রহীতা তাতে প্রকৃতই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

(২) ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বীমাকৃত অর্থের চেয়ে অধিক হতে পারবে না।

(৩) বীমাগ্রহীতা প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে বেশী গ্রহণ করে থাকলে, বীমাকারী সে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।

(8) বীমাকারীর কাছ থেকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ গ্রহণের পর বীমাগ্রহীতা যদি তৃতীয় কোন পক্ষের কাছ থেকে কোন অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে বীমাকারী তৃতীয় পক্ষ প্রদত্ত উক্ত সমুদয় অর্থই পাওয়ার বা নিয়ে নেয়ার অধিকার রাখেন।

(৫) ক্ষতিপুরণের নীতি ব্যক্তিগত বীমা বা জীবন বীমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। কারণ, জীবনের তথা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষতি হিসেব করা সহজসাধ্য নয়।

Leave a Comment