ভারত সরকার সামুদ্রিক বাণিজ্য খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে একটি বৃহৎ পুনর্বীমা সহায়ক তহবিল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এই সমন্বিত তহবিলের আর্থিক নিশ্চয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২৯.৮ বিলিয়ন রুপি, যা আনুমানিক ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যখন বৈশ্বিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সামুদ্রিক ঝুঁকি গ্রহণে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে, তখন ভারতের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই নৌ-ঝুঁকি সহায়ক তহবিল প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে। সরকারের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়েও দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহ স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন সংঘাতের কারণে বড় বড় বৈশ্বিক পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে অথবা কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি সরে এসেছে। এর ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য খাতে বীমা সুরক্ষার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কিছু দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক সামুদ্রিক বীমা বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এতে জাহাজ পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঝুঁকির জন্য আলাদা কভারেজ পাওয়া আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি বীমা সংস্থা তাদের ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করেছে। নতুন তহবিলের মাধ্যমে সামুদ্রিক বাণিজ্যের বিভিন্ন খাত যেমন জাহাজ, পণ্য পরিবহন, সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঝুঁকি আচ্ছাদিত করা হবে।
নিচে এই উদ্যোগের মূল দিকগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মোট আর্থিক নিশ্চয়তা | প্রায় ১২৯.৮ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) |
| কার্যকাল | ১০ বছর, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫ বছর |
| কাভারেজ ক্ষেত্র | জাহাজ, পণ্য পরিবহন, সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি, যুদ্ধ-সংক্রান্ত ঝুঁকি |
| সম্মিলিত ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা | প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন রুপি |
| প্রধান উদ্দেশ্য | বাণিজ্য সচল রাখা ও ঝুঁকি সুরক্ষা নিশ্চিত করা |
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে এবং বৈশ্বিক বীমা সংকটের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি দেশীয় বীমা খাতকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকার আশা করছে, এই তহবিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে এবং বাণিজ্যিক আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
