জীবন বীমা চুক্তি গঠন ও সম্পাদনের প্রক্রিয়াসমূহ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। ছোট-বড় যে কোন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু না কিছু চুক্তি গঠন ও সম্পাদনের জন্যেও স্বাভাবিক কারণেই সুনির্ধারিত কিছু পদ্ধতি, অনুসৃত হয়ে থাকে। কোন চুক্তি গঠনের ক্ষেত্রেও তার কোন ব্যত্যয় ঘটে না। লিম-কানুন ক্রমাগতভাবে অনুসৃত হয়ে অধুনা একটি উৎকর্ষিত ও সুসংহত পর্যায়ে তা উন্নীত হয়েছে।
জীবন বীমা চুক্তি গঠন ও সম্পাদনের প্রক্রিয়াসমূহ

একটি জীবন বীমা চুক্তি গঠন ও সম্পাদনের জন্যে যে প্রক্রিয়া- ধর অনুসৃত হয়ে চলেছে তা অতি সংক্ষেপে নিম্নে বর্ণিত হলো: –
১। প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতাসমূহ (Primary formalities) :
বীমাকারী চান বীমাপত্র বিক্রয় করতে এবং সে লক্ষ্যে তার তৎপরতা পরিচালনা তথা জনমনে যুক্তি ভিত্তিক আকর্ষণ সৃষ্টি করেন। অপর দিকে, আগ্রহান্বিত ব্যক্তিবর্গ বীমাপত্র ক্রয়ের জন্যে সচেষ্ট হন। এ প্রচেষ্টা থেকেই আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ বীমা প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে বা বীমা প্রতিনিধির কাছ থেকে স্ব স্ব প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্যাদি জেনে নিয়ে, বীমাপত্র গ্রহণ করতে চাইলে, চুক্তি গঠনের জন্যে লিখিত প্রস্তাব প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবনাপত্রের ফরম সংগ্রহ করে নেন।
২। প্রস্তাব দান (Making a Proposal or an Offer) :
সংগৃহীত প্রস্তাবনা ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিলেই ধরে নেয়া যায় যে ইনাকারীর সায় (Consent) পাওয়ার আশায় ফরম পূরণকারী একটি জীবন বীমাপত্র গ্রহণ বা ক্রয়ের জন্যে নিজের ইচ্ছা স্বতঃ প্রনোদিতভাবে প্রকাশ করলেন এবং এই ইচ্ছা প্রকাশকেই বলা হয় প্রস্তাব দান। এ প্রস্তাবনা পত্রটি বীমা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জীবন বীমা চুক্তির জন্যে প্রয়োজনীয় এবং প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যাদি জানার উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যক প্রশ্ন সমাবেশে ও সন্নিবেশে প্রস্তুতকৃত হয়।
প্রস্তাবনাপত্রে সাধারণতঃ বীমাগ্রহীতার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পরিবেশগত, কর্মস্থল বা পেশাগত এবং জীবনবীমা চুক্তির জন্যে প্রয়োজনীয় যাবতীয় বিষয়ের বিবরণ সঠিক ও যথার্থভাবে বিবৃত করতে হয়। তবে, প্রস্তাবনাপত্রে কোন অসত্য, অতিরঞ্জিত বা অপ্রয়োজনীয় বিবৃতি যেমন দেয়া যাবে না, তেমনি কোন তথ্য প্রদান করতে গিয়ে কিছু গোপন করা বা এড়িয়ে যাওয়াও যাবে না ; এমনকি, নিরাপত্তা, স্বার্থরক্ষা এবং অন্যবিধ যৌক্তিক কারণে যে কথা অবশ্যই জানানো দরকার তা জানতে চাওয়া না হলেও জানিয়ে দিতে বা বিবৃত করতে হবে। অন্যথায়, চুক্তিই রদ হয়ে যাবে অথবা বীমাকারী তার দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে যাবেন। কিন্তু, অন্যান্য সব চুক্তিতে সাধারণতঃ তেমনটি নয়। তাই, বীমাচুক্তিকে বলা হয় চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে – মন-মানসিকতা, প্রকৃতি ও প্রয়োজনের বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন ধরনের মানুষের জন্যে বিভিন্ন শ্রেণীর জীবন বীমাপত্রের উদ্ভব হয়েছে। আর, বিভিন্ন প্রকার বীমাপত্রের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হয়। তাই, বিভিন্ন ধরনের বীমাপত্রের জন্যে উপযোগী করে কয়েক রকমের জীবন বীমা প্রস্তাবনাপত্র (Proposal Form) চালু করা হয়েছে। তার মধ্যে দুধরনের প্রস্তাবনা পত্রই সর্বাধিক চালু রয়েছে। যথা : –
(ক) ডাক্তারী পরীক্ষাযুক্ত প্রস্তাবনাপত্র বা আবেদনপত্র এবং (খ) ডাক্তারী পরীক্ষাবিহীন প্রস্তাবনাপত্র বা আবেদনপত্র।
এছাড়াও, অন্যান্য জীবন বীমার আবেদনপত্রের মধ্যে অকাল-মৃত্যুর দায়বিহীন আবেদনপত্র, এল্যুইটি আবেদনপত্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
