নয়াদিল্লি: ভারত চারটি রাশিয়ান বীমা প্রতিষ্ঠানকে দেশীয় বন্দরে আসা জাহাজগুলোর জন্য এক মাসের অস্থায়ী বীমা সুবিধা প্রদানের অনুমতি দিয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহণে নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের নৌপরিবহন মহাপরিচালক (নৌপরিবহন অধিদপ্তর) জানিয়েছেন, সোগলাসি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, উগোরিয়া গ্রুপ অফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিজ, SBERBANK ইন্স্যুরেন্স এবং ASTK বীমা আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত জাহাজের “প্রটেকশন অ্যান্ড ইন্ডেমনিটি (সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণ)” বীমা প্রদান করতে পারবে।
এছাড়াও, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক সান ইউডব্লিউ এমজিএ-কেও একই ধরনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই বীমাগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়ার ক্রুড তেল ও অন্যান্য মূল্যবান কার্গো বহনকারী জাহাজগুলো এই সুরক্ষা ছাড়া বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। কর্মকর্তারা জানান, এই বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত রাশিয়ার তেলের রফতানি চালানোর জন্য কভার প্রদান করে।
তবে এই চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া, আরও কিছু রাশিয়ান বীমা কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদিভাবে ভারতীয় বাজারে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পেয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
| কোম্পানির নাম | সদর দপ্তর | ভারতীয় বাজারে অনুমোদনের মেয়াদ |
|---|---|---|
| আলফাস্ট্রাখোভানি পিসিএল | রাশিয়া | 2030 সাল পর্যন্ত |
| সোগাজ ইন্স্যুরেন্স কো. | রাশিয়া | 2030 সাল পর্যন্ত |
| ভিএসকে বীমা | রাশিয়া | 2030 সাল পর্যন্ত |
| ইঙ্গোস্ট্রাখ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি | রাশিয়া | 2029 সাল পর্যন্ত |
নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্থায়ী ছাড় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অব্যাহত চলাচলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা আরও উল্লেখ করেন, ক্রুড তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বীমার অভাব ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ মালিকদের ও কার্গো প্রেরকদের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যকে সহায়তা করবে, বিশেষ করে বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। ভারতীয় নৌপরিবহন বিভাগের মুখপাত্র জানান, অস্থায়ী ছাড়ের সময়কালে সমস্ত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং নৌনিয়মের নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ভারতীয় বন্দরগুলোতে রাশিয়ান জাহাজ ও কার্গো নিরাপদভাবে প্রবেশ ও প্রেরণের জন্য এই ধরনের বীমা এক প্রকার ‘গেটপাস’ হিসেবে কাজ করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অস্থায়ী ছাড় দিয়ে ভারত একটি মধ্যমস্রোত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকা পালন করছে।
